Binte Islam04:14 27 Jan 26
recommendsচোখের পলকেই যেনো রমাদান চলে এলো, অথচ আমি আঁটকে আছি গত রমাদান, তার পূর্বের ২৪এর রমাদানে।
ইলমের নূর ফেরি করা সবচেয়ে প্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম আমার মাদ্রাসা Islamic Online Madrasah - IOM যেনো রমাদানের কোর্সভরা ডালা নিয়ে হাজির হয়ে যায় প্রতিবার আলহামদুলিল্লাহ্।
মাদ্রাসা পার্পাসে এতএত গুণবতীদের সাথে সম্পর্ক হয়েছে, প্রতিনিয়ত তারা আর-রহমানের প্রিয় হতে তাদের খেদমতী চালাচ্ছে। দ্বীনের খেদমত যে এতভাবে করা যায়, মা শা আল্লাহ্ আল্লাহুম্মা বারিক লাহা ফিকুন্না জামিয়াহ।
এখন অব্দি শ্রেষ্ঠ রমাদান বলতে ২৪এর রমাদানের দিনগুলোই মনে আসে আমার।
আর-রহমানের অনুগ্রহে আমাদের অফলাইন মাদ্রাসা- মাদ্রাসাতুল মাদিনাহ্ লিল'বানাতে থাকার সুযোগ হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ্। ফজরওয়াক্ত হয় লাইলাতুল লাইলের সময়ে, এলার্ম নেই ঘড়ি নেই। (জান্নাতআপুর আম্মু) আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজোষ্ঠা ত্বলিবা। আন্টির ডাকে সবাই উঠে যেতাম। তাহাজ্জুদ আদায়ের তাগিদে যে-যার মতো মেশওয়াক ওযু করতে ব্যস্ত হয়ে যেতাম। তারপর পিনপন নিরবতা, দুনিয়াবি সমস্ত কোলাহল ছেড়ে সবাই রব্বীর সাথে আলাপনে মশগুল হয়ে যেত। এত মনোযোগী হয়ে দু'আর দরখাস্ত দেখে আমি শুধু... ভাবতাম- এত মুহাব্বত নিয়ে আমি কবে স্বলাত আদায় করেছিলাম? জামায়াতের সঙ্গে ফজর এরপর সবাই হাটু লাগিয়ে গোল হয়ে বসে ইয়াসিনের তিলাওয়াত শুনতাম, আহ্ আমার কল্ববের সুকুন! আমি বারবার এই মুহুর্তটায় ফিরতে চাই, আঁটকে থাকতে চাই।
তালিম থাকতো অল্পকিছু নাসিহা, আর সারাদিবের কাজের নির্দেশনা দিয়ে দেয়া হতো। এরপর কুরআন তিলাওয়াত, কিছুটা রেস্ট। তারপর নিজ নিজ কোর্সের দারস শুরু হয়ে যেত। খাতা-কলম নিয়ে ৪/৫/৬তলায় দৌঁড় দিতাম। বাইরে থেকে উস্তাযারাও আসতেন দারস নিতে। উস্তাযা, মাদ্রাসার বোন, জেনারেল পড়ুয়া সব এক দারসের ত্বলিবা হয়ে যেতাম। এভাবে যোহর ওয়াক্ত অব্দি দারস হতো, মাঝে ব্রেকের সময়টুকুতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা-আজমাইন, সালাফদের শিক্ষনীয় বিষয় গুলো শুনিয়ে জজবা নিয়ে আসতেন। আসর, মাগরিব, ইশা সব জামাতের সাথে স্বলাত আদায় করা হতো। জামাত যেনো কোনোভাবে মিস না হয় এইগল্প নাই-বা বললাম। সব গল্প জানাতে নেই, কিছু অজানা থাকুক। আসরের পরের সময়টুকু তো যেনো জান্নাতুল বাকির একচিলতে হাওয়া ভেসে আসে দক্ষিণের কার্নিশে। ২/৩/৪/৫জন গোল হয়ে বসে কেউ কুরআন হিফজ করছেন, কেউ পড়া শোনাচ্ছেন, কেউ বা আমলের প্রতিযোগিতায় আর কেউ কেউ নও-মুসলিমার দ্বীনে ফেরার গল্প শুনে অভিভূত হচ্ছে।
ইফতারের আগে স্পিকারে ডাকা হচ্ছে মুজতাযাবুত দাওয়াহ্ কে, কোনো পুরুষের কন্ঠ এত কোমলীয় হয়ে কাঁদতে পারে, গুনাহের হিসাব করতে করতে লুটিয়ে পড়া, দু'আর অংশীদারদের নিয়ে এত এক্সপ্ল্যানেইশন আমি আগে কখনো কোথাও শুনিনি,শিখিনি।
দুধদাঁত পড়া বাচ্চা থেকে শুরু করে চুলে পাকধরা সব সময়ের মানুষের সমাগম একরুমে। অথচ কি শৃঙ্খল, কতটা আদব নিয়ে চলে সকলে। খানা সামনে নিয়ে দু'আ কবুলিয়াতের প্রত্যাশায় সবাই এত মনোযোগী যে ইফতারের স্বাদ আগেই পেয়ে গেছে। ক্ষুধা নেই, তাড়া নেই শুধু রবের প্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতা।
এক সেনিতে দস্তানা বিছিয়ে এতজনের সাথে খানা খাওয়ার অভিজ্ঞতা আগে ছিল না, মাদ্রাসাগুলোতে হয়তো এভাবেই ইনসাফের চর্চা শেখানো হয়। কেউ অধিক খাচ্ছে না, বরং যে পায়নি তাকে এগিয়ে দিচ্ছে। খানা শেষে সেনি পরিষ্কার করা নিয়েও টানাটানি অবস্থা, সবাই সওয়াব কুড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে যেনো!
এরমধ্যে আবার দৌঁড়ে নামাজের ঘরে- প্রথম কাতারে দাঁড়াতে হবে তো, আর উস্তাযাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবতী লাগে যেনো। নামাজ,আমল শেষে রেস্ট। তারপরেই ইশা এবং তারাবির নামাজের তাড়া শুরু হয়ে যায়। লম্বা সময় নিয়ে নামাজ আদায় করা হয়। এত শোভনীয় এত তৃপ্তির সুবহানআল্লাহ বর্ণনা করার শব্দভান্ডার নেই আমার।
ইলমের নূর আসেই তো দ্বীল থেকে দ্বীলে, হাঁটু হতে হাঁটুতে।
অনেকগুলো বিষয় স্কিপ রেখেছি, আইওএম এর লেবাস গায়ে জড়ালে এর নূর অব্দি পৌঁছা সম্ভব। এতটুকুই বলব। আমি প্রীত আলহামদুলিল্লাহ্।
২৫ এর রমাদানে মাদ্রাসায় যাওয়ার সুযোগ না হলেও কয়েকটি কোর্স জয়েন করেছিলাম।
▫️রমাদান সীরাহ্ কোর্স
▫️৪০হাদিস কোর্স
▫️শ্রেষ্ঠ মানুষদের জানি
প্রতিটি কোর্স এত সুশৃঙ্খল এবং সময়ানুযায়ী হয়েছিল, প্রতিদিনের টাস্ক, কুইজ, ইমতিহান সমস্তকিছু ছিল অত্যন্ত নিয়মের ব্যাতিরেকে।
ইসলামিক অনলাইন মাদ্রাসা শুরুই তো হয়েছিল রসূলের দেশে, এখানে এতএত বারাকাহ্ আলহামদুলিল্লাহ্। আমার মাদ্রাসার প্রতিটি কোণে, উস্তায, খেদমতকারীদের সকলের হায়াতে রব্ব তায়্যিবা দান করুন, এবং নিজ অনুগ্রহে কাজগুলো কবুল করে নিন।
আ-মিন ইয়া রব্বুল আলামীন 🤍
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ রমাদান স্পেশাল অবশ্যই, আর সময় তো নির্ধারিত। তাই রমাদানের পূর্বেই আমল লিষ্ট, দু'আ লিষ্ট করা খুব খুব জরুরী।read more