Umme Honey Raita10:01 14 Apr 26
recommendsছোট থেকেই একটা ইচ্ছা ছিল। মাদ্রাসায় পড়ব, ত্বলিবে ইলম হব, দ্বীনের দায়ী হব। কিন্তু এই পথের প্রতিবন্ধকতা ছিল একটাই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুন্দর মনোরম একটা দ্বীনি পরিবেশ আর তারবিয়াতের বড়ই অভাব। চারদিকে শুনি অমুক মাদ্রাসায় এই এই অঘটন, মারধর নানান কাহিনী। আজকে ভাই মার খেয়ে মুমুর্ষ অবস্থা তো কালকে অমুক বোন। এরপর না আমার সাহস হয় আর না মা-বাবা সাহস করে। একটাই চিন্তা, মেয়েদের কোথায় পড়াব??
অবশেষে উপায় না পেয়ে একটা স্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেটি ছিল ইসলামিক অনুশাসনে চলা প্রতিষ্ঠান। প্রিন্সিপাল স্যার তাবলিগের সাথী ছিলেন। এজন্য দ্বীন পালনে কোনো সমস্যা হয়নি। ছোট থেকেই পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ পেয়েছি। বাসায় উস্তাযা রেখে অল্প কিছু পড়েছি কিন্তু ত্বলিবে ইলমের সাধ কি আর এইটুকুনে মিটে!!
আফসোস করতাম খুব, কীভাবে ইলম অর্জন করা যায়। মনে হতো ভিতরটা শূন্য মরুভূমি। আল্লাহর দ্বীন মানছি তো কতটুকুই বা জানি ভালোমতো। ভয় হতে থাকে, না জেনে কি অনেক কিছুই ভুলভাবে আদায় করছি? সব কি ঠিক আছে? কেউ যখন হঠাৎ জিজ্ঞেস করে পর্দা কেনো করো, হাতমোজা কেনো পড়ো, ছাদে আসতেও বোরকা পড়া লাগে, শুধু মেয়েরা কেন কষ্ট করে পর্দা করবে ছেলেদেরকে... আল্লাহ কিছু করতে বলেন নাই,, তখন মনে হয় যেন হাজারো শব্দের ভিড়ে সঠিক জবাবটা হারিয়ে ফেলি। কোথা থেকে কি বলব আর কোথায় গিয়ে শেষ করব ভেবে পাইনা যেন। এ তো ইলমের চর্চারই অভাব বটে। বান্ধবীকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হলে এমন এমন প্রশ্নের বেড়াজালে পড়ব যার উত্তর কোথায় জানা নেই। কিন্তু জানতে তো হবে, বলতে হবে, আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
অনেক অনেক কিছু জানার বাকি। সুতরাং আমার জন্য দ্বীনে ফেরা বলতে আসলে আইওএম এর এই শান্তির নীড় খুঁজে পাওয়া বোঝায়। অনলাইন অফলাইন সবখানে খুঁজতাম কীভাবে কি উপায় আছে পড়ার। কিন্তু কোনোটাই সুবিধামতো হয়না, আসলে মনে ধরতো না। এমনি একদিন গুগলে সার্চ করে আইওএম এর ওয়েবসাইট খুঁজে পাই। সত্যি বলতে সেদিন এতটাই উৎফুল্ল হয়ে পড়েছিলাম যে আসলেই কিভাবে আইওএমকেই পেলাম বিস্তারিত কিছু আর মনে নেই। তারপর ঘুরে দেখে খুব মনে ধরে যায় এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি এখানেই পড়ব। তখন আমার মেডিকেল অ্যাডমিশন এর প্রিপারেশন ফেজ চলে। একটু রিস্ক হয়ে যায় দুইটা সামলানো জেনেও সাহস করে ভর্তি হয়েই গেলাম। যা আছে কপালে। ইলমে দ্বীন শিখতে পিছপা হওয়া যাবেনা, শয়তানের বাঁধা পেরোতে এখনই উপযুক্ত সময় কাজে লাগানোর। মনে হল মরুর বুকে ইলমের জন্য কাতর আমি কোনো ঝর্ণা খুঁজে পেলাম। কেন যেন শুরু থেকেই আইওএম এর ওয়েব দেখলেই প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। মনে হয় যেন কতদিনের চিরচেনা প্রিয় জায়গা এটাই। এতটা তৃপ্তি অন্য কোনো কিছুতে লাগেনা যতটা আইওএম এর ক্লাসে অনুভব হয়। আইওএম এর বইগুলো দেখলে অনুভব হয়। আইওএম এখন আমার জীবনের পূর্ণতা। প্রাপ্তির খাতায় অনিন্দ সুন্দর একটি সংযোজন।read more